জার্মানি: নাগরিকদের মৌলিক অধিকার সংকটে, পুলিশ ও বিচারব্যবস্থার সমালোচনা বাড়ছে
জার্মানিতে ২০২৬ সালের মৌলিক অধিকার প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। এতে দেখা গেছে, নাগরিকদের মৌলিক অধিকার ক্রমশ সংকটে পড়ছে। বিশেষ করে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সীমিত হচ্ছে। প্রশাসনিক বিচারক ম্যাক্স পুটজার বলেন, রাষ্ট্রের কর্তৃত্ববাদী মনোভাব বাড়ছে। উদাহরণস্বরূপ, প্রো-প্যালেস্টাইন সমর্থক বিক্ষোভে বক্তব্যের জন্য বিচার বিভাগ তদন্ত করছে। রাজনৈতিক নেতাদের অবমাননার অভিযোগেও বাড়ছে তল্লাশি। গত বছর সমাবেশের স্বাধীনতাও অনেক ক্ষেত্রে বাধাগ্রস্ত হয়েছে। প্রতিবেদনটি ৩০ বছর ধরে মানবাধিকার সংস্থা যেমন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার লীগ, প্রো আশ্রয় ও হিউম্যানিস্টিক ইউনিয়নের যৌথ উদ্যোগে প্রকাশিত হচ্ছে। এতে আইন, প্রশাসন, আদালত ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক ও স্বাধীনতার ভিত্তি ক্ষুণ্ণ হওয়ার নানা ঘটনা তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনটি বিশেষভাবে সতর্ক করেছে যে, দেশকে সামরিক প্রস্তুতিতে নিয়ে যাওয়া মৌলিক অধিকার হুমকির মুখে ফেলছে। ৮১ বছর আগে নাৎসি শাসন থেকে মুক্তির দিনে জার্মানির বিভিন্ন স্থানে ছাত্ররা পুনরায় সামরিক বাধ্যবাধকতা (ওয়ার্ডিউটি) ফিরিয়ে আনার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেছে। ১৭ বছর বয়সী লিও নামের এক ছাত্র বলেন, দেশের জন্য হত্যার প্রশিক্ষণ নেওয়া তার নৈতিক দায়িত্ব নয়। প্রতিবেদন আরও বলেছে, রাষ্ট্রের পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ বাড়ছে। জনসমাগম স্থানে ভিডিও নজরদারি, মুখ চিনতে সক্ষম প্রযুক্তি, বড় পরিমাণ তথ্য যাচাই বাড়ছে। পুলিশ এখন ব্যথা সৃষ্টিকারী গ্রিপ, টেজার ও অন্যান্য সুরক্ষা অস্ত্র ব্যবহার করছে, কিন্তু কেন ও কখন তা ব্যবহার হয় তা পর্যাপ্ত তদন্ত হচ্ছে না। পুলিশকে আইনি বিশেষ সুরক্ষা দেয়া হয়েছে, যা বিচারব্যবস্থায় বৈষম্যের ইঙ্গিত দেয়। প্রতিবেদন নাগরিকদের বাসস্থান অধিকার, সামাজিক সুবিধা, জলবায়ু সুরক্ষা ও স্বাস্থ্য তথ্য নিয়ে নানা সমস্যা তুলে ধরেছে। বিশেষ করে দুর্বল ও শরণার্থী সম্প্রদায়ের অধিকারের অবনতি হয়েছে। সীমান্তে কঠোর নিয়ন্ত্রণ, আটক ও পরিবার পুনর্মিলনের সীমাবদ্ধতা বাড়ানো হয়েছে। ডিজিটাল ক্ষেত্রেও ফেডারেল অপরাধ তদন্ত ও সীমান্ত পুলিশকে নতুন ক্ষমতা দেয়া হচ্ছে, যেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভূমিকা রয়েছে। বিচারক পুটজার উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যে, রাজনীতিবিদরা আদালতের সিদ্ধান্ত মানছে না। উদাহরণস্বরূপ, সীমান্তে অনৈতিক প্রত্যাখ্যানের বিষয়ে আদালত নিষেধাজ্ঞা দিলেও তা রাজনৈতিকভাবে উপেক্ষিত হয়েছে। সাবেক বিচারমন্ত্রী হার্টা ডাউবলার-গমেলিন বলেছেন, জার্মানিতেও দীর্ঘদিন ধরে কর্তৃত্ববাদী প্রবণতা বাড়ছে। নিরাপত্তার নামে স্বাধীনতা সীমিত করা হচ্ছে। প্রতিবেদনটি ছোট ছোট পরিবর্তনের মাধ্যমে এই অবনতি ঘটছে, যেমন নজরদারি বৃদ্ধি, প্রতিবাদের ওপর কঠোর ব্যবস্থা ও বিচার ব্যবস্থার ওপর চাপ। এই খবর জার্মানির নাগরিকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কারণ এটি তাদের মৌলিক অধিকার ও স্বাধীনতার অবস্থা সম্পর্কে সতর্ক করে এবং ভবিষ্যতে তাদের অধিকার রক্ষায় সচেতন হওয়ার প্রয়োজন দেখায়।
মূল খবরটি পড়ুন — ZDFheutezdfheute.de · German



