জার্মানির বহুসংস্কৃতির ব্যর্থতা ও অভিবাসন সংকট
জার্মানিতে বহুসংস্কৃতি সমাজ গড়ার প্রচেষ্টা এখন ব্যর্থ বলে স্বীকৃত। ১৯৫০-এর দশকে ইতালি, স্পেন, গ্রিস এবং পরে তুরস্ক থেকে শ্রমিকদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তখন কেউ ভাবেনি তারা ভবিষ্যতে দেশের নাগরিক হয়ে উঠবে। ২০১০ সালে অ্যাঙ্গেলা মেরকেল ঘোষণা করেছিলেন, বহুসংস্কৃতি ধারণা সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। আজও পরিস্থিতি অনেকটাই অপরিবর্তিত বা আরো খারাপ। তুর্কি বংশোদ্ভূত তৃতীয় প্রজন্মের অনেকের শিক্ষাগত ফলাফল জার্মানদের তুলনায় কম। অনেক অভিবাসী ভাষা শিখতে বা সমাজে মিশতে আগ্রহী নন। ২০২৩ সালের শেষে জার্মানিতে প্রায় তিন মিলিয়ন শরণার্থী বা আশ্রয়প্রার্থী ছিল, যাদের অধিকাংশই ইউক্রেন, সিরিয়া, আফগানিস্তান ও ইরাক থেকে এসেছে। তবে তাদের মধ্যে মাত্র ৪২ শতাংশই কাজ পাচ্ছে, আর ইউক্রেনীয়দের ক্ষেত্রে মাত্র ২৭ থেকে ৩০ শতাংশ। অপরাধের পরিমাণও বেড়েছে, যেখানে অপরাধীদের মধ্যে বিদেশিদের সংখ্যা ১৭.৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। অনেক অভিবাসী তাদের আগের দেশের সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধ নিয়ে আসেন, যা জার্মান সমাজের সঙ্গে সংঘর্ষ সৃষ্টি করে। অনেকেই দেশটিকে সাময়িক আশ্রয়স্থল মনে করেন এবং সামাজিক নিয়ম মেনে চলতে আগ্রহী নন। লেখক মনে করেন, জার্মানিতে অভিবাসন দরকার, কিন্তু তা হতে হবে যোগ্য ও স্পষ্ট নিয়মের সঙ্গে। ভাষা শেখা, কাজ করা এবং সংবিধান মেনে চলা বাধ্যতামূলক। যারা তা মানতে চায় না, তাদের থাকার অধিকার নেই। বহুসংস্কৃতি সমাজের বদলে একটি সম্মান ও নিয়মভিত্তিক অভিবাসন সমাজ গড়া জরুরি। এই আলোচনা সাধারণ মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কারণ এটি জার্মানির সামাজিক স্থিতিশীলতা ও অভিবাসন নীতির ভবিষ্যত নির্ধারণ করবে।
মূল খবরটি পড়ুন — Berliner Zeitungberliner-zeitung.de · German

