ডেনমার্কের নির্মম শরণার্থী নীতি ও রুয়ান্ডায় আশ্রয় পাঠানোর পরিকল্পনা
ডেনমার্ক শরণার্থী নীতিতে কঠোরতা বাড়িয়েছে। তারা শরণার্থী আশ্রয় ও আবেদন প্রক্রিয়া রুয়ান্ডায় স্থানান্তরের জন্য একটি চুক্তি করেছে। রুয়ান্ডা হলো আফ্রিকার একটি স্থিতিশীল স্বৈরাচারী দেশ, যেখানে প্রেসিডেন্ট পল কাগামে দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতায় আছেন। এই চুক্তি ডেনমার্কের অভিবাসন মন্ত্রী ম্যাটিয়াস টেসফায়ের গোপন সফরের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়।
ডেনমার্ক ইউরোপীয় ইউনিয়নের শরণার্থী নীতির আওতায় নেই, তাই তারা নিজস্ব কঠোর নিয়ম চালু করতে পারছে। রুয়ান্ডায় শরণার্থী অবস্থানের সময় সেখানে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগও আছে। তিন বছর আগে রুয়ান্ডার পুলিশ অনশনে থাকা নিরস্ত্র শরণার্থীদের গুলি চালিয়ে কমপক্ষে বারোজনকে হত্যা করে।
ডেনমার্কের এই নীতি নরওয়ে সহ অন্যান্য দেশেও প্রভাব ফেলছে। তারা শরণার্থী আশ্রয় দেওয়ার পরিবর্তে আশ্রয় প্রক্রিয়া দূরবর্তী দেশগুলোতে স্থানান্তর করতে চায়। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার প্রতিবেশী দেশগুলো ইতিমধ্যে কোটি কোটি শরণার্থী ধারণ করছে। উদাহরণস্বরূপ, লেবাননে এক মিলিয়নের বেশি সিরিয়ান শরণার্থী রয়েছে, আর তুরস্কে চার মিলিয়নের বেশি।
ডেনমার্কের এই পদক্ষেপ মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে সমালোচিত। শরণার্থীদের অধিকাংশই এখন কঠিন পরিস্থিতিতে ডেনমার্কের নিয়ন্ত্রণাধীন কেন্দ্রগুলোতে আটকে পড়ছেন। এই নীতির ফলে শরণার্থীদের ইউরোপে আশ্রয় পাওয়া আরও কঠিন হয়ে পড়বে। সাধারণ মানুষের জন্য এর অর্থ হলো, শরণার্থীদের মানবিক অধিকার ও সুরক্ষা কমে যাবে এবং তারা দীর্ঘ সময়ের জন্য অনিশ্চিত অবস্থায় থাকতে হবে।
মূল খবরটি পড়ুন — Aftenpostenaftenposten.no · Danish


