হোম অফিসে গোপনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার
ওপেন রাইটস গ্রুপ (Open Rights Group) নামের একটি সংগঠনের রিপোর্ট অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যের হোম অফিসে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) গোপনে ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে সম্ভাব্য ভুয়া বিবাহ শনাক্তকরণ, আশ্রয়প্রার্থী বয়স নির্ধারণ, নতুন আগতদের ফোনের তথ্য পরীক্ষা এবং সীমান্ত নজরদারি করা হচ্ছে। এআই চালিত ড্রোন ও স্যাটেলাইটের মাধ্যমে লাইভ ফেসিয়াল রিকগনিশন ব্যবহার করা হচ্ছে। এছাড়া আশ্রয় সাক্ষাৎকার ও নীতিমালা সংক্রান্ত তথ্য সংক্ষেপ করার কাজেও এআই ব্যবহৃত হচ্ছে। এই প্রযুক্তি আইপিআইসি (Identify and Prioritise Immigration Cases) নামের একটি গোপন টুলের মাধ্যমে কেস প্রক্রিয়াকরণ ও অগ্রাধিকার নির্ধারণেও কাজে লাগছে।
রিপোর্টে বলা হয়েছে, এআই নিরপেক্ষ নয় এবং এটি সমাজের বিদ্যমান পক্ষপাত ও বৈষম্যকে পুনরায় তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে যখন এটির ব্যবহার মূলত অভিবাসন-বিরোধী নীতিমালা ও বক্তব্যের অংশ হিসেবে হচ্ছে। সরকারি তথ্য প্রকাশে গোপনীয়তা বজায় রাখতে জাতীয় নিরাপত্তার কথা বলে তথ্য আড়াল করা হচ্ছে। রিপোর্টে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে যে, মানুষকে কেবল তথ্যের বিন্দু হিসেবে দেখা হচ্ছে এবং এটি ২০১২ সালে তেরেসা মে কর্তৃক প্রবর্তিত 'শত্রু পরিবেশ' নীতির পুনরাবৃত্তি।
ওপেন রাইটস গ্রুপ সরকারকে আহ্বান জানিয়েছে, এআই ব্যবহারে স্বচ্ছতা আনতে এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঝুঁকি থাকা ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে। তারা আরও বলেছে, সরকারকে জাতীয় নিরাপত্তার সংজ্ঞা সংকীর্ণ করতে হবে এবং সরকারি এআই টুলগুলোর একটি পাবলিক রেজিস্ট্রি তৈরি করতে হবে।
হোম অফিসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এআই কেবল একটি সহায়ক টুল হিসেবে ব্যবহার করা হয় এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের কাজ মানুষই করে। তারা নিয়মিত এআই টুলগুলোর কার্যকারিতা পর্যবেক্ষণ করে এবং ভবিষ্যতে মূল্যায়নের তথ্য প্রকাশ করবে। এই বিষয়টি সাধারণ মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কারণ এতে অভিবাসন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে।
মূল খবরটি পড়ুন — The Guardiantheguardian.com · English



