যুক্তরাজ্য থেকে ফেরত আসা শরণার্থীর জীবনের কঠিন বাস্তবতা
যুক্তরাজ্য থেকে ফ্রান্সে ফেরত পাঠানো এক শরণার্থী গোপনে আবার যুক্তরাজ্যে ফিরে এসেছে এবং এখন লুকিয়ে আছে। তিনি বলেছেন, তার জীবন এখন খুবই কঠিন। তিনি জানিয়েছেন, অন্তত ১৮ জন শরণার্থীও একইভাবে গোপনে যুক্তরাজ্যে ফিরে এসেছে। এই শরণার্থী লরি ভাড়া করে যুক্তরাজ্যে এসেছে। ফ্রান্সের উত্তরাঞ্চলের 'জঙ্গল' শরণার্থী শিবিরে তাকে পাচারকারীরা ধরেছিল এবং কাজ করতে বাধ্য করতে চেয়েছিল। তিনি তা অস্বীকার করলে মারধর করা হয়। তিনি পালিয়ে যুক্তরাজ্যে ফিরে আসেন, যেখানে তিনি নিরাপদ বোধ করেন। যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের মধ্যে 'ওয়ান ইন, ওয়ান আউট' (একজন আসলে আরেকজন ফেরত) শরণার্থী নীতির উদ্দেশ্য ছিল ছোট নৌকা পারাপার কমানো এবং পাচারকারীদের ঠেকানো। কিন্তু পাচারকারীরা এখন লরি ব্যবহার করে বেশি দামে যুক্তরাজ্যে পাচার করছে। এই বছর পর্যন্ত ৬০৫ জনকে ফ্রান্সে ফেরত পাঠানো হয়েছে, আর ৫৮১ জন যুক্তরাজ্যে এসেছে এই নীতির আওতায়। শরণার্থী বলেছেন, তিনি অবৈধ কাজ করেন না, কিন্তু লুকিয়ে থাকার কারণে জীবন কঠিন। তিনি পুলিশকে আত্মসমর্পণ করতে চান, কিন্তু ফেরত পাঠানো হলে পাচারকারীরা তাকে মারতে পারে বলে ভয় পাচ্ছেন। অন্য এক শরণার্থী, যিনি যুক্তরাজ্য থেকে পালিয়ে ইতালিতে আছেন, বলেছেন, যুক্তরাজ্যের হোম অফিস জানে না তিনি দেশ ছেড়ে গেছেন। অভিবাসন সংগঠন জয়েন্ট কাউন্সিল ফর দ্য ওয়েলফেয়ার অফ ইমিগ্র্যান্টস বলেছে, সরকারী নীতি মানুষকে বিপজ্জনক পথে যেতে বাধ্য করছে এবং অপরাধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। হোম অফিস বলেছে, যারা ফেরত পাঠানো হয়েছে তারা আবার যুক্তরাজ্যে আসার চেষ্টা করলে পুনরায় ফেরত পাঠানো হবে। এই বিষয়টি সাধারণ মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কারণ এটি ইউরোপে শরণার্থী নীতির জটিলতা ও মানবিক সংকট তুলে ধরে।
The Guardian·১১ ঘণ্টা আগে