গ্লাসগোতে মেডিসিন পড়ার সুযোগ পেল সারা, কেন বাধা দিচ্ছে হোম অফিস?
২৫ বছর বয়সী সারা (ছদ্মনাম) দীর্ঘদিন ধরে ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন। ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে কাবুল বিশ্ববিদ্যালয়ে মেডিসিন পড়ার সুযোগ পান। কিন্তু কয়েক মাসের মধ্যে তালেবান ক্ষমতায় ফিরে নারীদের ডিগ্রি পড়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এরপর তিনি অন্য পথ খুঁজতে থাকেন। গ্লাসগো বিশ্ববিদ্যালয় তাকে একটি গেটওয়ে কোর্সে ভর্তি হওয়ার সুযোগ দেয়। কিন্তু মার্চ ২০২৬ থেকে আফগানিস্তান, সুদান, মায়ানমার ও ক্যামেরুনের শিক্ষার্থীদের জন্য ভিসা বাধা চালু হওয়ায় তার আবেদন আটকে যায়। সারা অত্যন্ত মেধাবী ও পরিশ্রমী শিক্ষার্থী বলে তার শিক্ষকরা মনে করেন। বিশ্ববিদ্যালয় তাকে স্বাগত জানানোর জন্য অপেক্ষা করছিল। কিন্তু যুক্তরাজ্যের হোম অফিস তাকে বাধা দিচ্ছে। সারা তার জীবনের নানা চ্যালেঞ্জের কথা বলছেন। স্কুলে আত্মঘাতী বোমা হামলা থেকে বেঁচে গেছেন, বাবার জোর করে বিয়ে দেওয়ার চেষ্টা এড়িয়ে গেছেন, তালেবানের দমন-পীড়নের মধ্যেও পড়াশোনা চালিয়ে গেছেন। বাবার কঠোরতা ও সমাজের প্রচলিত রীতির বিরুদ্ধে লড়ে তিনি উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন দেখেছেন। ২০২০ সালে তালেবানের আত্মঘাতী বোমা হামলায় তার অনেক বন্ধু নিহত হয়। ২০২১ সালে তালেবান ক্ষমতায় আসার পর নারীদের শিক্ষা বন্ধ হয়ে যায়। সারা তখন ঘরে বসে পড়াশোনা চালিয়ে যান, বন্ধুদের থেকে বইয়ের পিডিএফ সংগ্রহ করেন। ২০২৪ সালে বাড়িতে বাবার সহিংসতা বেড়ে যাওয়ায় তিনি দেশ ছাড়েন। পাকিস্তানে পুলিশ তাকে ধরার চেষ্টা করলেও তিনি পালিয়ে যান। সারা এখন যুক্তরাজ্যে এসে তার ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন পূরণের জন্য লড়ছেন। কিন্তু হোম অফিসের বাধা তার স্বপ্নের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মূল খবরটি পড়ুন — The Guardiantheguardian.com · English



