স্টার্টআপ থেকে স্কেলআপ: ব্রিটেনের বড় চ্যালেঞ্জ
যুক্তরাজ্য সরকার স্টার্টআপ এবং স্কেলআপ কোম্পানিগুলোর বিকাশকে অর্থনীতির অগ্রাধিকার হিসেবে নিয়েছে। ২০২৬ সালের বাজেটে নতুন 'ফাউন্ডার্স রিলিফ' চালু করা হয়েছে, যা উদ্যোক্তাদের কর সুবিধা দেবে। এছাড়া এন্টারপ্রাইজ ম্যানেজমেন্ট ইনসেনটিভ (EMI) স্কিম বাড়ানো হয়েছে এবং তরুণ ও নারী উদ্যোক্তাদের জন্য নতুন সহায়তা ঘোষণা করা হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য হলো ব্রিটিশ কোম্পানিগুলোকে দেশেই বড় হওয়ার সুযোগ দেয়া, যাতে তারা বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রি না হয়ে নিজস্বভাবে বিশ্বব্যাপী প্রসার লাভ করে।
যুক্তরাজ্য ইউরোপের সবচেয়ে বড় স্টার্টআপ ফান্ডিং কেন্দ্র হলেও, বড় পরিমাণ ধৈর্যশীল বিনিয়োগের অভাব রয়েছে। বিশেষ করে সিলিকন ভ্যালির তুলনায় ব্রিটিশ বিনিয়োগকারীদের পুঁজির পরিমাণ অনেক কম। তাই বড় কোম্পানি গড়ে তোলার জন্য পর্যাপ্ত তহবিলের অভাব ব্রিটেনের বড় সমস্যা। নারী উদ্যোক্তাদের জন্য নতুন উদ্যোগ থাকলেও, ব্যক্তিগত ঝুঁকি ও শিশু পরিচর্যার খরচ এখনও বড় বাধা। সরকার 'উইমেন ইন টেক টাস্কফোর্স'ের মাধ্যমে স্বেচ্ছাসেবী মানদণ্ড তৈরি করছে, যা ভেঞ্চার ক্যাপিটাল এবং কর্মক্ষেত্রে নারীদের অবস্থান উন্নত করবে।
লন্ডনের বাইরে উচ্চবৃদ্ধির ব্যবসার সংখ্যা বেশি হলেও সেখানে বিনিয়োগ কম। তাই বিভিন্ন অঞ্চলে বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য সরকার একাধিক তহবিল চালু করেছে, যেমন নর্দার্ন স্কেলআপ ফান্ড। বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণাকে ব্যবসায় রূপান্তর করার জন্য নতুন প্রকল্পও চালু হয়েছে। ব্রিটিশ বিজনেস ব্যাংককে আরও ৫ বিলিয়ন পাউন্ড দেওয়া হয়েছে, যা মোট পুঁজিকে ৩০.৬ বিলিয়ন পাউন্ডে উন্নীত করবে। এই উদ্যোগগুলো ব্রিটেনকে শুধু স্টার্টআপের দেশ নয়, স্কেলআপের দেশ হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা।
এই পদক্ষেপগুলো ব্রিটিশ অর্থনীতিতে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং প্রযুক্তি খাতে বিশ্বমানের কোম্পানি গড়ে তোলার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তবে কর সুবিধা ছাড়া বড় বিনিয়োগ এবং ঝুঁকি নেওয়ার সংস্কৃতিও দরকার।
মূল খবরটি পড়ুন — Tech.eutech.eu · English
