যুক্তরাজ্য বলেছিল দাসপ্রথার ক্ষতিপূরণ আলোচনা হবে না
যুক্তরাজ্যের কর্মকর্তারা কমনওয়েলথ শীর্ষ সম্মেলনের আলোচনায় দাসপ্রথার ক্ষতিপূরণের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত না করার জন্য জোরালোভাবে অনড় ছিলেন। এই সম্মেলন অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডায় শুরু হয়েছে। রালফ গনসালভেস, সেন্ট ভিনসেন্ট ও গ্রেনাডাইনসের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী, বলেন যুক্তরাজ্য এই আলোচনায় আসতে বাধ্য হয়েছিল। তিনি জানান, ব্রিটিশ কর্মকর্তারা এমনকি হুমকি দিয়েছিলেন, যদি ক্ষতিপূরণের বিষয়টি আলোচনায় আসে তবে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেবেন না। তবে ভারত এই বিষয়ে সমর্থন জানিয়েছে, যা যুক্তরাজ্যের পক্ষ থেকে ভুল তথ্য ছড়ানো হয়েছে।
কমনওয়েলথের ৫৬টি দেশের এই সম্মেলনে মূলত বাণিজ্য, জলবায়ু সহনশীলতা, অর্থনীতি, গণতন্ত্র ও যুবদের জন্য বিনিয়োগের বিষয়গুলো আলোচিত হচ্ছে। তবে ক্যারিবিয়ান দেশগুলো এবং সংশ্লিষ্ট আন্দোলনগুলি দাসপ্রথার ক্ষতিপূরণের বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তুলেছে। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম প্রথমবারের মতো এই বিষয়ে গঠনমূলক সংলাপের কথা স্বীকার করেছেন এবং সম্ভাব্য ক্ষমা প্রস্তাবের কথাও বলেছেন।
গয়ানা ও বার্বাডোসের প্রধানমন্ত্রীরা ক্ষতিপূরণের বিস্তারিত আলোচনা ও বাস্তবায়নের জন্য কমনওয়েলথের একটি উপকমিটি গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন। তারা বলছেন, শুধু অতীতের ভুলের জন্য অর্থ প্রদান নয়, বরং দাসপ্রথার দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব মোকাবিলায় উন্নয়নমূলক পদক্ষেপ নিতে হবে। বার্বাডোসের প্রধানমন্ত্রী মিয়া মটলি বলেন, দাসপ্রথার জন্য ক্ষমা, স্বাস্থ্য ও শিক্ষায় বিনিয়োগ, দারিদ্র্য ও বৈষম্য কমানো এবং ঋণের শর্ত উন্নত করা গুরুত্বপূর্ণ।
বাহামাসের প্রধানমন্ত্রী ফিলিপ ডেভিস বলেন, এই আলোচনাগুলো শুধু ইতিহাসের স্মরণ নয়, বরং ন্যায়বিচার ও যথাযথ সমাধানের জন্য। সম্মেলনের শুরুতে, অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডার স্বাধীনতার ৪৫তম বার্ষিকী উপলক্ষে কিং চার্লস দাসপ্রথার বিষয়ে কথা বলবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
এই আলোচনা সাধারণ মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কারণ এটি ব্রিটেন ও ক্যারিবিয়ান দেশগুলোর ইতিহাসের জটিল সম্পর্কের স্বীকৃতি এবং ভবিষ্যতে উন্নয়নের জন্য সহযোগিতার পথ খুলে দিতে পারে।
মূল খবরটি পড়ুন — The Guardiantheguardian.com · English




