কিং চার্লস কমনওয়েলথ সম্মেলনে দাসপ্রথার ক্ষমা চেয়ে বক্তৃতা
ব্রিটেনের কিং চার্লস বলেছেন, দাসপ্রথার ভয়াবহতা সম্পর্কে তার বোঝাপড়া গভীর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তিনি অতীতের ভুলগুলো মোকাবেলা করতে আরও দৃঢ় হয়েছেন। তিনি এই মন্তব্য করেন কমনওয়েলথ সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে, যা অ্যান্টিগুয়া ও বার্বুডায় অনুষ্ঠিত হয়। কিং চার্লস বলেন, অতীতের কাজ পরিবর্তন করা সম্ভব নয়, তবে অতীত থেকে শেখা যায়। তিনি ট্রান্সআটলান্টিক দাসপ্রথাকে 'লজ্জাজনক অধ্যায়' হিসেবে উল্লেখ করেন এবং বলেন এটি কমনওয়েলথের অনেক দ্বীপে এখনও ছায়া ফেলেছে। তবে তিনি সরাসরি ক্ষমা চাননি বা ক্ষতিপূরণের পক্ষে স্পষ্ট সমর্থন দেননি। বরং শিক্ষা, কর্মসংস্থান, কমনওয়েলথের মধ্যে বাণিজ্য এবং জলবায়ু সহনশীলতাকে বর্তমান সমস্যার সমাধান হিসেবে তুলে ধরেন।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী এন্ডি বার্নহাম বলেন, তিনি দাসপ্রথার জন্য ক্ষমা চাওয়ার পক্ষে নন, তবে কমনওয়েলথের দেশগুলোর উন্নয়ন ও ঋণ সমস্যা সমাধানে সাহায্য করতে চান। তিনি £৪০ মিলিয়ন বরাদ্দের ঘোষণা দিয়েছেন যা আগামী তিন বছরে ক্যারিবিয়ানের অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যয় হবে। ক্যারিবিয়ান নেতারা বলছেন, ক্ষমা একটি প্রথম ধাপ, কিন্তু ক্ষতিপূরণ ছাড়া তা অসম্পূর্ণ। ক্যারিকম (ক্যারিবিয়ান কমিউনিটি) এর চেয়ারম্যান ফিলিপ জে পিয়েরে বলেন, দাসপ্রথার ক্ষতিপূরণে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, সাংস্কৃতিক পুনরুদ্ধার, ঋণ মওকুফসহ ১০ দফার পরিকল্পনা আলোচনা হওয়া উচিত।
কিং চার্লস রাজনীতিতে নিরপেক্ষ থাকায় তিনি ক্ষমা চাইবেন না বলে জানানো হয়েছে। তবে ব্রিটিশ সরকার ও রাজপরিবারের দাসপ্রথার সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়টি রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। সম্মেলনের বাইরে প্রতিবাদকারীরা ক্ষমা ও ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছেন। এই ঘটনা ব্রিটেন ও ক্যারিবিয়ান দেশগুলোর ইতিহাস ও বর্তমান সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরেছে।
মূল খবরটি পড়ুন — The Guardiantheguardian.com · English




